লিংকন ২৬/১০/২৩
ইলিশ নাকি আমাদের জাতিয় মাছ! হ্যাঁ এক সময় তা ছিলো বটে!
তখন ত্রিশ টাকা, চল্লিশ টাকায় - আস্ত একটা ইলিশ! আহ্! সে কি স্বাদ!
কোন বাড়িতে রান্না হলে তার মৌ মৌ গন্ধে ভরে যেতো পুরো পাড়া।
গরীব বলো, বড়লোক বলো - সবার হাতের নাগালেই ছিলো দাম!
সবাই খেতে পেতো পেটপুড়ে। অথচ সে ইলিশ আজ - শুধুমাত্র ধনীদের পাতে শোভা বাড়ায়,
মধ্যবিত্তরা মাঝেমধ্যে বিলাসিতায় মাতে! গরীব শ্রেণী শুধু বাজারে দেখে আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে!
অতীত স্মৃতি জাবর কাটে তারা। মনের সূখে বলে - একদিন! একদিন আমরাও খেতাম এ ইলিশ,
খেতাম ইলিশ মাছের ডিমভাজা। সন্তানের দিকে তাকিয়ে কখন যে মনের অজান্তে চোখের জল গড়িয়ে পড়ে!
সম্বিৎ ফিরে পায় মাছওয়ালাদের হাঁক শুনে!
তাদের বুকে রক্তক্ষরণ হয় হৃৎপিন্ডের প্রাচীর ভেদ করে।
কেউ দেখার নেই, কেউ দেখে না, কেউ বুঝে না! বুঝে শুধু মধ্যবিত্ত আর গরীবজনে!
আচ্ছা ইলিশ এখন কেমন করে জাতিয় মাছ হয়? না! হয় না!
যে মাছ ধরাছোঁয়ার বাইরে! সে মাছ তো আমার দেশের জাতিয় মাছ হতেই পারে না!
এই যে ইলিশ! গরুর মাংস! দেশী মুরগি! বাজারের সব্জি! ক্ষেতের ধান!
এ সবও কি ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা পশ্চিমা বিশ্ব থেকে আসে?
আসে বলেই কি পাড়ভাঙ্গা স্রোতের মতো হু হু করে বেড়ে যায় প্রতিটি দ্রবের দাম!
শুনেছি দেশেই আলু উৎপাদন যথেষ্ট হয়েছে, হিমাগারে যতটুকু আছে তা এক সিজেনের জন্য অনেক বেশি!
তবুও ইলিশ মাছের মতোই ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে দিনকে দিন!
আচ্ছা! আমরা কি তবে স্বাধীনতার আড়ালে আবার সিন্ডিকেট নামক বৃটিশ শাসনে চলে এসেছি!
এসেছি কি ৭১' এর পূর্ববর্তী পাকিদের অভরায়ণ্যে!
যেখানে সাধারন মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার নেই,
নেই প্রতিবাদ করার নুন্যতম মেরুদন্ডটুকু। চারদিকে শুনি উন্নয়ন আর উন্নয়ন!
এটা হয়েছে, সেটা হয়েছে! হ্যাঁ অনেক কিছু হয়েছে! পদ্মা সেতু হয়েছে!
কর্ণফুলীর টানেল হয়েছে! হয়েছে শহরে উড়ালসেতু, মেট্টোরেল!
আর আমি আমরা হয়েছি ভ্যাট ট্যাক্সের চাপায় ন্যুজ্ব!
সবার মতোই আমারও প্রশ্ন- আমার উন্নয়ন কোথায়? কোথায় সাধারন মানুষের উন্নয়ন!
কেনো পেটভরে খেতে গেলেই বাজারের চিন্তা মাথায় আসে !
কেনো বাজারে গেলেই হতাশায় বুক কাঁদে! কেনো আমায় অল্প বয়সে বার্ধক্য পেয়ে বসে!
কেনো চিন্তায় চিন্তায় আমার চোখ বসে যায়! কালি লাগে চোখের কোঁঠরে!
