কাউনিয়ায় ২২ বছরেও সচল হয়নি এক্সরে মেশিন, ভোগান্তি চরমে
মো: আমজাদ হোসেন কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি -- রংপুরের অবহেলিত কাউনিয়ায় প্রায় তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় নামে মাত্র ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ২২ বছরে ১টি এবং ১০ বছরে আরও একটি এক্সরে মেশিন সচল হয়নি। এছাড়া মেডিক্যালের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে আরও কিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘ ১০বছর থেকে স্থায়ী আবাসিক মেডিকেল অফিসার, শিশু, চক্ষু এবং চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে এক্সরে মেশিনটি স্থাপনের বছর খানেকের মাথায় নষ্ট হয়ে যায়। এরপর বেশ কয়েক বার ভাল করার চেষ্টা করা হয়েছে কিছু দিন চলে আবার নষ্ট হয়ে যায়। মেশিনটি মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার চিঠি দিয়েও কাজ হয়নি। পরবর্তীতে গত ১০বছর আগে আর একটি আধুনিক ডিজিটাল এক্সরে মেশিন প্রদান করা হয়েছে কিন্তু সেটিও অপারেটরের অভাবে চালান সম্ভব হয়নি। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে তাদের রংপুর জেলা সদরে গিয়ে অথবা স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনেক টাকা ব্যয় করে এক্সরে সহ বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে। উপজেলায় ২টি রেলওয়ে স্টেশন ও রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনায় অনেকের হাত-পা ভেঙ্গে যায় তা শনাক্ত করতে এক্সরে মেশিন প্রয়োজন, কিন্তু মেডিক্যালের ২টি এক্সরে মেশিন থাকলেও ১টি ২২ অন্যটি ১০ বছর ধরে অচল, ইসিজি ম্যাশিনটিও অপারেটরের অভাবে চলে না, রক্ত সংরক্ষণের রিফ্রেজারটি নষ্ট। বিদ্যুৎ চলে গেলে এটা ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়। রোগীদের খাদ্যের মান নি¤œমানের। একটি অ্যাম্বুলেন্সের নষ্ট পড়ে রয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা না পেয়ে বলতে শোনা গেছে সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর অঙ্গীকার বাণিজ্যমন্ত্রীর এলাকায় সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সেবা প্রত্যাশী ওয়াহেদ আলী জানান, স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া জনগণের অধিকার কিন্তু তদারকি না করায় এলাকায় জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা থেকে। উপজেলা স্বাস্থ্য এবং প : প : কর্মকর্তা ডা. সাদিকা তুন তাহিরিণ জানান শুধু এক্সরে মেশিনই নয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশ কিছু যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে, সে ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষকে জানান হয়েছে কিন্তু কোন অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া এক্সরে অপারেটরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেপুটেশনে রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিদুল হক জানান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা সমস্যার কথা জেনেছি। জেলা সমন্বয় মিটিং-এ বিষয় গুলো সমাধানের জন্য তুলে ধরবো। এলাকার দরিদ্র জনগণ দ্রুত এক্সরে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকট দুর করে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।