"দৈনিক কাউনিয়া "অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে কাউনিয়ার সকলকে জানাচ্ছি শুভেচ্ছা...........

Sunday, August 4, 2024

 জীবন জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরতে হলো রিক্সা চালক লতিফকে

কাউনিয়া(রংপুর)প্রতিনিধিঃ জীবন জীবিকার তাগিদে অটো রিক্সা নিয়ে বাহিরে গিয়ে আর ঘরে ফেরা হয়নি অটো রিক্সা চালক আব্দুর লতিফের। ছোট ভাইয়ের বিবাহ ঠিক করার জন্য আগস্টে গ্রামের বাড়িতে ফেরার কথা থাকলেও কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন ঠিকই কিন্তু ছোঠ ভাইয়ের বিবাহ আর ঠিক করা হয়নি তার। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও শোকের মাতম থামছে না নিহত লতিফের পরিবারের। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পুরো পরিবারটির মাতার উপরে আকাশ ভেঙে পড়েছে। গত ২০ জুলাই বিকেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় নারায়নগঞ্জের টিটাগং রোড দশতলার সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় আব্দুল লতিফ। নিহত আব্দুল লতিফ (৩০) রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবীষূ গ্রামের মোঃ নেজাবুদ্দিন ও মোছাঃ নবিয়া খাতুনের পূত্র। তিন ভাই বোনের মধ্যে দ্বিতীয় আব্দুল লতিফ। আভাবের সংসারে পরিবারকে সহোযোগিতা করার জন্য ১০ বছর আগেই ঢাকায় চলে আসেন তিনি। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে এসে তাকে এভাবে জীবন দিতে হবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। শনিবার (৩ আগস্ট) সকালে নিহত আব্দুল লতিফের স্ত্রী মোছাঃ সাহিদা বেগম বলেন, তিন বৎসর আগে তাদের বিবাহের হয়েছে বিগত তিন বৎসর যাবৎ তারা নারায়নগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। প্রতিদিনের ন্যায় সেদিনো বাসা থেকে রিক্সা নিয়ে বের হন আব্দুল লতিফ। নিহতের স্ত্রী আরো বলেন, গত শুক্রবার (২০ জুলাই) সন্ধায় পাশের বাসার এক ভাবি আমাকে খবর দেন যে লতিফ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছে। কোন হাসপাতালে আছেন সেটা কেউ বলতে পারছিলো না পরে নারায়নগঞ্জের অনেক জায়গায় খোজাখুজি করে না পেয়ে ঢাকা মোডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার সন্ধান পাই। হাসপাতালে গিয়ে দেখি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সে মর্গে পরে আছে। গুলি তার ডান চোখের একটু নিছ দিয়ে ঢুকে মাথার পিছন দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে। পরে ২২ তারিখ রাতেই আমার স্বামীর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসি রাত ৯টায় তাকে দাফন করা হয়। যারা আমার স্বমীকে এভাবে গুলি করে মেরেছে আমি তাদেও কঠিন বিচার চাই। নিহত লতিফের বাবা জানান লতিফের আয়ের উপরেই তাদের ৫ সদস্যের পরিবারের ভরন পোষন চলতো এখন কিভাবে তাদেও সংসার চলবে সেটা উপরঅলাই ভালো জানেন। যারা আমার ছেলেকে এভাবে মেরেছে আমি তাদের বিচার চাই।