"দৈনিক কাউনিয়া "অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে কাউনিয়ার সকলকে জানাচ্ছি শুভেচ্ছা...........

Sunday, December 10, 2023

 ঘন কুয়াশার প্রভাবে মানুষ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে

 

 তুহিন ,কাউনিয়া বাজার ( রংপুর) প্রতিনিধি-অগ্রহায়ণ শেষে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় রংপুর। তিস্তা-ঘাঘট, করতোয়া-যমুনেশ্বরী ঘেরা জেলার প্রকৃতি ঘন কুয়াশায় ঢাকা। সকালে সূর্য উঠলেও কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশে আলোর ঝিলিক নেই। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কুয়াশার কারণে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।সোমবার (১১ ডিসেম্বর) ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশা লক্ষ্য করা গেছে। নগরীর খাড়া রাস্তাগুলোও ঘন কুয়াশার শিশির বিন্দুতে ভেজা। কুয়াশায় কুয়াশায় ঘোলাটে হয়ে উঠেছে সবুজ প্রকৃতিও।এ অবস্থায় ভোর থেকেই সড়ক-মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ছোট-বড় যানবাহনগুলোকে। দুর্ঘটনা এড়াতে রেলপথে ট্রেনের গতিও কমানো হয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে ট্রেন চলাচলের আশঙ্কা রয়েছে।এদিকে সকাল থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত রংপুর নগরের শাপলা চত্বর, নতুন আদর্শপাড়া, বাবুখান, কামারপাড়া, লালবাগ, টার্মিনাল রোডসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকজনকে কাজে যেতে দেখা গেছে। সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা কম থাকায় তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। এ কারণে তাঁদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে।রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সোমবার সকাল নয়টা পর্যন্ত রংপুরে তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সূর্যোদয় হয় ভোর ৬:৪০ মিনিটে। তবে সকাল দশটা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।রোববারের তুলনায় আজ তাপমাত্রা বাড়লেও কুয়াশার ঘনত্ব কমেনি। রোববার রংপুরে তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মূলত কুয়াশা কেটে গেলে শীত বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ড.আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সোমবার সকাল নয়টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ডিমলায় ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং গাইবান্ধায় ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসে সড়কে আটকা পড়া অসহায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এই কুয়াশা বাড়লেও তা মনে করিয়ে দিচ্ছে ঠান্ডা স্রোতের কথা।শীতের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন এ জেলার শীতার্ত, অসহায় ও দরিদ্র মানুষ। বিশেষ করে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে নদী তীরবর্তী ও বিক্ষিপ্ত মানুষ। যেন তাদের কষ্টের শেষ নেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রেই শীতের প্রভাব পড়েছে।রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরের খান অভুমুখী মার্কেটের মুরগি বিক্রেতা মামুন মিয়া জানান, তীব্র শীতের কারণে বেচাকেনা অনেকটাই কমে গেছে। হাড় কাঁপানো শীতে জীবিকার জন্য দোকান খোলা থাকলেও তেমন লাভ হচ্ছে না।কামারপাড়া এলাকার নবীন ইসলাম বলেন, শিশুদের সকাল সাতটায় উঠে স্কুলে নিয়ে আসতে হয়। তার ছোট মেয়ে ও গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডায় ভুগছে। এমনকি তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান।এদিকে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে প্রতিদিনই উত্তরাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ রংপুর মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরাই বেশি। এছাড়া আগুন জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টায় অনেকেই দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন।এদিকে, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসুস্থ নারী, পুরুষ ও শিশুদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য মেডিকেল টিমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ ওয়াজেদ আলী জানান, শীতের রোগে আক্রান্ত শিশু, মহিলা ও বৃদ্ধদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া রয়েছে মনিটরিং টিম।অন্যদিকে কৃষি জমিতে কাজের জন্য কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। সার, বীজ ও সেচের পাশাপাশি কৃষি শ্রমিকদের মজুরিতে বাড়তি খরচ হয়।এমন ঘন কুয়াশা থাকলে কৃষির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান কৃষকরা। শীতকালে সব সময়ই বোরো বীজ ও রবিশস্যের ক্ষতি হয়। ঠান্ডা আঘাত এবং পচা সঙ্গে প্লেগ বিশেষ করে বৃদ্ধি.রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনামুল হক বলেন, কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং তাদের করণীয় সম্পর্কে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে।অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়েছে।এ প্রসঙ্গে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, শীতের শুরুতে রংপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বিতরণের জন্য ৪৫ হাজার কম্বল দেওয়া হয়েছে।